Friday, April 27, 2018

মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের শব্দ সৈনিক সাবেক মাদারীপুর ছাত্রলীগের সভাপতি সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন

সৃতির আয়নায় অম্লান মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের শব্দ সৈনিক সাবেক মাদারীপুর ছাত্রলীগের সভাপতি সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন ভাই এবং কিছু কথাঃ আহসান উল্লাহ সম্পাদক, দৈনিক জনতা।
বিচ্ছেদ সব সময়ই বেদনাদায়ক। আর সে বিচ্ছেদ যদি হয় চির বিদায়ের। কোনো প্রিয় ব্যক্তিত্বের চির বিদায় ঘটে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। প্রিয়জনের মৃত্যু আমাদের যন্ত্রণাবিদ্ধ করে। মনকে করে কাতর ও পীড়িত। আমরা সেই বিচ্ছেদের সময় ভুলে যাই মানুষ মরণশীল। জন্ম ও মৃত্যু মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। এটা মানুষের নয় সব প্রাণীর এক অনিবার্য পরিণতি। অমোঘ সত্য। আমার সাংবাদিক জীবনের এককালের সহকর্মী বন্ধু আমির হোসেন সাহেব তার কর্মস্থল ডেইলি সান অফিসে কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ২০১৭ সালের ৬ মার্চ।

আমির হোসেন সাহেবের সঙ্গে আমার পরিচয় হয় ১৯৬৯ সালে। ১৯৬৬ সালে আইয়ুব-মোনেম আমলে ইত্তেফাক বন্ধ করে দেয় স্বৈর সরকার। ইত্তেফাক প্রেস কনফিসকেট করা হয়। ইত্তেফাক সম্পাদক মানিক মিয়াকে কারারুদ্ধ করা হয়। আমরা ইত্তেফাকের সবাই বেকার হয়ে যাই। আমার মামা শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেন কিছু দিন বেকার থাকার পর সংবাদ সংস্থা পিপিআইতে ব্যুরো চিফ হিসেবে যোগদান করেন। পিপিআইতে প্রায় দুই বছর মতো ছিলেন। সেখানে আমির হোসেন রিপোর্টার ছিলেন। আমির হোসেন এক সময় ইত্তেফাকের মাদারীপুর প্রতিনিধি ছিলেন। আগে থেকেই তাদের দুজনের আলাপ পরিচয় ছিল। পিপিআইতে কাজ করার সময় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমির হোসেন তার কাজের দ্বারা সিরাজুদ্দীন হোসেনের মন জয় করতে সমর্থ হন। ১৯৬৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ইত্তেফাক পুনঃপ্রকাশিত হলে সিরাজুদ্দীন হোসেন তার পুরনো জায়গায় ফিরে আসেন। তিনি আমির হোসেনকে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। ইত্তেফাক বন্ধ হয়ে গেলে আমি ডেইলি পাকিস্তান অবজার্ভার পত্রিকায় চাকরি পেয়ে যাই। দুই বছর সেখানেই ছিলাম। দৈনিক ইত্তেফাক পুনঃপ্রকাশিত হলে আমিও পুরনো জায়গায় ফিরে আসি। ইত্তেফাকে ১৯৬৯ সালে আমির হোসেন সাহেবের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। তবে ঘনিষ্ঠতা তেমন হয়নি। আমি ডেস্কের লোক ছিলাম— সাব এডিটর। আর আমির হোসেন সাহেব ছিলেন রিপোর্টার। ওই সময় ইত্তেফাকের চিফ রিপোর্টার ছিলেন খোন্দকার আবু তালেব। পরবর্তী সময়ে চিফ রিপোর্টার হন তাহের উদ্দিন ঠাকুর। আমির হোসেন তার কাজের দ্বারা এবং আচার-আচরণের দ্বারা সবারই মন জয় করেছিলেন। বার্তা বিভাগের সর্বময় কর্তা এবং তৎকালের শ্রেষ্ঠ বার্তা সম্পাদক সিরাজুদ্দীন হোসেন তাকে বিশেষভাবে স্নেহ করতেন। আমির হোসেন রিপোর্টার হিসেবে মেধাবী ও দক্ষ ছিলেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি মাদারীপুর ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। কাজেই তার রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা বেশ প্রখর এবং স্বচ্ছ ছিল। পলিটিক্যাল রিপোর্টগুলো তিনি ভালো লিখতেন। আর বাংলা এবং ইংরেজি দুটো ভাষাই ভালো লিখতেন। বার্তা সম্পাদক সিরাজুদ্দীন হোসেনের একটি উক্তি আমার মনে পড়েছে। কথাটা আমার মনে আছে। কোনো এক প্রসঙ্গে তিনি বললেন, আমির তুই তো আমার থেকে ভালো ইংরেজি লিখিস।

আমির হোসেন সাহেবের রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা স্বচ্ছ ছিল। এর পেছনে তিনি স্কুল জীবনেই রাজনৈতিক দীক্ষা পেয়েছিলেন। তিনি যখন মাদারীপুর ইউনাইটেড ইসলামিয়া হাইস্কুলের ছাত্র, তখন তাদের হেডমাস্টার ছিলেন হামিদ আকন্দ। হামিদ আকন্দ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ ভক্ত এবং তার রাজনৈতিক দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। জনাব আকন্দ তার প্রিয় ছাত্রদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি সম্পর্কে কথাবার্তা এবং পাকিস্তানীদের শোষণ-নিপীড়ন-বৈষম্য এবং প্রাসাদ চক্রান্তের বিষয়ে ছাত্রদের মধ্যে একটি ধারণা সৃষ্টি করেন। প্রকৃতপক্ষে স্কুল জীবন থেকে আমির হোসেন শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনে বিশ্বাসী তরুণ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে গড়ে ওঠেন। এরই ফলশ্রুতিতে আমির হোসেন ১৯৬২ সালে মাদারীপুরের নাজিমুদ্দীন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

’৬৯-এর গণআন্দোলন, ’৭০-এর নির্বাচন এবং ’৭১-এর ২৫ মার্চের পূর্ব পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অগ্নিঝরা আন্দোলনের দিনগুলোতে আমির হোসেন ইত্তেফাকে প্রচুর রাজনৈতিক রিপোর্ট লিখেছেন। ওই সময়ে তিনি মাঝে-মধ্যে মাদারীপুরে যেতেন। প্রায়ই মাদারীপুর যাওয়ায় ইত্তেফাকের রিপোর্টিং সেকশনের কাজে কিছু ব্যাঘাত সৃষ্টি হতো। এ জন্য চিফ রিপোর্টার তাহের উদ্দিন ঠাকুর অভিযোগ করতেন। ঠাকুর সাহেব অবশ্য আমির হোসেনের মেধা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন। একদিন ঠাকুর সাহেব বার্তা সম্পাদককে বলতে শুনলাম, আমির আরও সিরিয়াস হলে He could excel all the reporters of Dhaka. আমির হোসেন সাহেব ওই সময়টাতে ইত্তেফাকে চাকরি করেও মাদারীপুর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি মাদারীপুরের রাজনীতিতে একজন গরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলে বিবেচিত হতেন। ’৭৩-এর নির্বাচনে মাদারীপুর থেকে তিনিই আওয়ামী লীগের নমিনেশন পাবেন বলে সবাই মনে করতেন। আমির হোসেন মাদারীপুরের অধিবাসী আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতা আবদুর রাজ্জাকের স্নেহভাজন ছিলেন। তিনি ছিলেন আমির হোসেন সাহেবের বড় ভাইয়ের মতো। ওই সময়ে শিবচর নির্বাচনী এলাকায় আমির হোসেনের থেকে জনপ্রিয় নেতা আর কেউ ছিলেন না। তার সততা, অমায়িক ব্যবহার, মানুষকে আপন করে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা মাদারীপুরের এক জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। স্কুল জীবন থেকে ভালো ছাত্র এবং ভালো মানুষ হিসেবে এলাকার নারী-পুরুষ-নির্বিশেষে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার মন তিনি জয় করেছিলেন। সবাই জানত ওই নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ থেকে আমির হোসেনকে নমিনেশন দেওয়া হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে ১৯৭৩-এর সাধারণ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে নেপেটিজম বা স্বজনপ্রীতি প্রাধান্য পেল। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলো ইলিয়াস আহমদ চৌধুরীকে। তিনি শেখ ফজলুল হক মণির ভগ্নিপতি এবং বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নিজামাই। ঘটনাটি আমির হোসেনকে একটি বড় ধরনের ধাক্কা দেয়। তার রাজনৈতিক জীবনের আশা ভঙ্গ হয়। এই না পাওয়ার বেদনা তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছিল। ঘটনাটি তার রাজনৈতিক জীবনে ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে দেশ, জাতি ও জনগণের সেবা করার উজ্জ্বল সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দেয়। এ ঘটনার পরও দলের প্রতি তার আনুগত্যের কোনো ঘাটতি পড়েনি। তিনি আজীবন আওয়ামী লীগের প্রতি অনুগত ছিলেন। ’৭৩-এর নির্বাচনে মনোনয়ন পেলে তিনি হয়তো আর সাংবাদিকতা জীবনে ফেরে আসতেন না। তার মতো সৎ ৎসিদয়বান মেধাবী একজন ভালো মানুষের সেবা থেকে দেশ ও জনগণ বঞ্চিত হয়। ’৭৩-এ মনোনয়ন না পাওয়ার বঞ্চনা তার একার ছিল না। এ ঘটনা তার এলাকার আপামর মানুষের জীবনেও সে বঞ্চনার ছায়াপাত করে। ’৭৫-এর জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর দেশে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে তাতে আমির হোসেন সাহেবও বিপদের মধ্যে পড়েন। তার এলাকার প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে মামলা দেয় এবং তার ওপর হামলার চেষ্টা হয়। ওই সময় তিনি ভারতে চলে যান। পরবর্তী সময়ে ভারত থেকে ফিরে এসে তিনি সাংবাদিকতাকেই প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নেন। সক্রিয় রাজনীতি থেকে তিনি সরে আসেন।

মোহাম্মদ আলী জিন্নার ১৯৪৭ সালের দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৪ আগস্ট যে পাকিস্তানের সৃষ্টি হয় সে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে পশ্চিম পাকিস্তানি সুবিধাবাদী প্রাসাদ ষড়যন্ত্রকারীদের কুশাসন ও বৈষম্যের কালো থাবা জেঁকে বসে। পূর্ব পাকিস্তান সর্বক্ষেত্রে বঞ্চনা, শোষণ ও বৈষম্যের শিকার হয়। পশ্চিম পাকিস্তানিদের এই অপশাসনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধারাবাহিক প্রতিবাদ এবং ধাপে ধাপে আন্দোলন ও প্রতিবাদমুখর করে তোলে পূর্ব পাকিস্তানিদের। এ ক্ষেত্রে দৈনিক ইত্তেফাকের একটি বিশাল ভূমিকা ছিল। ইত্তেফাক সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া এবং সিরাজুদ্দীন হোসেনের লেখনী শেখ মুজিবের আন্দোলনের সঙ্গে সমানতালে বাঙালিদের উদ্বুদ্ধ করে প্রতিবাদমুখর হতে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অভ্যুদ্বয়ে ইত্তেফাকের সংগ্রামী ভূমিকার নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

’৭১-এর শুরু থেকে পূর্ব পাকিস্তান অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ’৭০-এর নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা না দেওয়া, ইয়াহিয়া-ভুট্টোর ষড়যন্ত্র বাঙালিদের মনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ৭ মার্চে রমনা রেসকোর্সের বিশাল সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর ভাষণে এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। এ ঘোষণা বাঙালিদের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আজ বিশ্ব-স্বীকৃতি লাভ করেছে। ইউনেস্কো একে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটা বাংলাদেশের একটি বিশাল অর্জন।স্মৃতির আয়নায় অম্লান সাংবাদিক আমির হোসেন

১৯৭১-এর ৭ মার্চের ভাষণের আগের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনার কথা উল্লেখ করব। ঘটনাটা এখন হয়তো কেউই জানেন না বা দু-একজন বিষয়টা জানলেও এটা তাদের মন থেকে হারিয়ে গেছে। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্সে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনামূলক ভাষণ দিতে যাচ্ছেন, এটা সবাই জানত। পত্র-পত্রিকায় এ বিষয়ে লেখালেখি হচ্ছিল। চরমপন্থি ছাত্রনেতারা কেউ কেউ ওই দিন স্বাধীনতা ঘোষণার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। পাকিস্তান রেডিও এই ভাষণ প্রচার করবে না— এরকম একটা সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিল। ৭ মার্চের তিন/চার দিন আগে গভীর রাতে ইত্তেফাকের বার্তা সম্পাদক সিরাজুদ্দীন হোসেন আমির হোসেনকে বললেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ রেডিওতে প্রচার হওয়া উচিত এবং দাবিটা এখনই জানানো দরকার। দেখতো নেতাদের কাউকে টেলিফোনে পাস নাকি। পেলে এখনই একটা বিবৃতি নিয়ে দে। আজকেই এটা ইত্তেফাকে যাবে।

আমির হোসেন সাহেব টেলিফোনে রাজ্জাক, তোফায়েল, তাজউদ্দীন এদের যোগাযোগের চেষ্টা করলেন। কিন্তু ওই গভীর রাতে কাউকে পাওয়া গেল না।

সিরাজ সাহেব আমির হোসেনকে বললেন, ‘তুই একটা বিবৃতি এখনই লিখে ফেল। আমির হোসেন তার চেয়ারে বসে ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বেতারে প্রচারের দাবি সংবলিত নিউজটা লিখে ফেললেন। আমির হোসেন তার ঘনিষ্ঠজন যুবনেতা তোফায়েল আহমদের নামে তার পূর্বানুমতি ছাড়াই বিবৃতি ছাপার কথা বললে বার্তা সম্পাদক সিরাজুদ্দীন হোসেন রাজি হয়ে যান। পরদিন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বেতারে সম্প্রচার দাবি সংবলিত তোফায়েল আহমদের বিবৃতি ছাপা হয়ে যায়।

পুরো কাহিনীটা আমির হোসেনের মুখ থেকে শোনা যাক। “২ মার্চের কথা। রাতের মতো কাজ শেষ করে বাসায় ফিরার আগে সিরাজ ভাইর কাছে গিয়ে বললাম, চলে যাচ্ছি, সব কাজ শেষ।

সিরাজ ভাই একটা নিউজের কপি দেখছিলেন। মুখ না তুলেই বললেন, সাংবাদিকদের কাজ আবার শেষ হয় কী করে? লেখা শেষ হয়ে থাকলে বসে বসে পত্রিকা পড়। ঘরে ফেরার তাড়া কিসের?

আমি বললাম, তাড়া নেই কিছুই। আজকের মতো যা লেখার ছিল শেষ করেছি। তাই যেতে চাইছিলাম।

সিরাজ ভাই চায়ের অর্ডার দিয়ে বললেন, চা খা ক্লান্তি ও ঘুম দুটোই পালাবে।

চেয়ার টেনে বসে পড়লাম।

হাতের কপিটা শেষ করে সিরাজ ভাই বললেন, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর রেসকোর্সে যে ভাষণ দেবেন সেটা রেডিওতে প্রচার হলে সারা দেশের মানুষ তার বক্তব্য শুনতে পেত। মিটিংয়ে তো লোক আসবে বড় জোর আট দশ লাখ। পত্রিকা পড়ে ধর তার কয়েক গুণ। কিন্তু বাকিরা? সাড়ে ৭ কোটি মানুষের ৭ কোটি শুনতে পাবে না, জানতেও পারবে না তিনি কী বললেন। অথচ ভাষণটা রেডিওতে প্রচারের ব্যবস্থা হলে মুৎসির্তের মধ্যে তা ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে।

আমি বললাম, কিন্তু সেটা হবে কী করে?

সিরাজ ভাই বললেন, হতে পারে। দেখ না চেষ্টা করে। চা খেয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের ধর। বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা রেডিওতে প্রচারের দাবি জানিয়ে একটা বিবৃতি ছেপে দেই। দেখা যাক কিছু হয় কিনা। বিবৃতিটা তুই-ই লিখে ফেল। শুধু কনসেন্টটা নিয়ে নে।

তখন রাত ১২টা পেরিয়ে গেছে। চা খেতে খেতেই টেলিফোন করা শুরু করলাম। তাজউদ্দীন সাহেব থেকে শুরু করে যাকেই ডায়াল করি, হয় ঘুমে না হয় বাইরে। আওয়ামী লীগের বিশিষ্ট কোনো নেতাকেই পেলাম না। বললাম, কাউকেই পাচ্ছি না, কালকে চেষ্টা করে দেখব!

সিরাজ ভাই বললেন, সময় চলে যাচ্ছে। দেরি করা ঠিক হবে না। কী করা যায় বলত?

আমি বললাম, বিবৃতিটা তোফায়েল আহমেদের নামে হলে যদি চলে, ছেপে দেই। কালকে তাকে সব খুলে বললেই হবে।

সিরাজ ভাই রাজি হলেন। আমি তখনকার যুবনেতা তোফায়েল আহমেদের নামে একটা বিবৃতি তৈরি করে দিলাম। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ রেডিওতে সরাসরি প্রচারের দাবি সংবলিত সেই বিবৃতি পরদিন ইত্তেফাকে ছাপা হলো।

সে দিনই বিকালে তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে দেখা আওয়ামী লীগ অফিসে। আমাকে দেখেই তিনি বললেন, আমি বুঝতে পেরেছি বিবৃতিটা আপনিই ছেপে দিয়েছেন। সারা দিন বিভিন্ন পত্রিকার লোকজন অনুযোগ করেছে, বিবৃতিটা শুধু ইত্তেফাকে পাঠালেন কেন? আমরা কেন পেলাম না ইত্যাদি। বাধ্য হয়ে বলতে হয়েছে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল তাই আর সব পত্রিকায় পাঠানো সম্ভব হয়নি।

বঙ্গবন্ধু অফিসেই ছিলেন। তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে অফিসে ঢুকতেই বঙ্গবন্ধু হাসতে হাসতে বললেন, আমির, তোর বিরুদ্ধে তোফায়েলের নালিশ আছে। তার অনুমতি ছাড়া তুই নাকি তার নাম জাল করে বিবৃতি ছেপেছিস ইত্তেফাকে।

আমি বললাম, যা করেছি গুড ফেইথে করেছি এবং সিরাজ ভাইর নির্দেশে করেছি। সুতরাং এ নালিশে আমি ঘাবড়াইনি।

স্মৃতির আয়নায় অম্লান সাংবাদিক আমির হোসেন

বঙ্গবন্ধু বললেন, খুব ভালো করেছিস। এটা আরও আগেই করা উচিত ছিল। ওরা হয়তো খেয়ালই করেনি। সিরাজ এসব ব্যাপারে খুব সজাগ। এ জন্যই আমি তার ওপর এত ভরসা করি। কেমন আছেরে ‘লাল মিয়া’?কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে তরুণ শেখ মুজিব ও সিরাজুদ্দীন হোসেন সহপাঠী ছিলেন। দুজনেই বেকার হোস্টেলে থাকতেন। সেখানে দুজনের মধ্যে যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, তা সারা জীবন অক্ষুণ্ন থাকে। দুজনেই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ভাবশিষ্য ও অনুসারী ছিলেন। তাদের দুজনের বন্ধুত্বের সুবাদেই বঙ্গবন্ধু সিরাজুদ্দীন হোসেনকে ‘লাল মিয়া’ বলে ডাকতেন। বঙ্গবন্ধু বললেন, তোফায়েলের বিবৃতিটা তোরা ভালোই ছেপেছিস। আজ এ ব্যাপারে তাজউদ্দীনের বিবৃতি যাচ্ছে পত্রিকায়। পরদিন পত্রিকায় তাজউদ্দীন আহমদের বিবৃতিটি প্রকাশিত হয়। ৭ মার্চের ভাষণ রেডিওতে সরাসরি প্রচারের দাবি ক্রমশ এমনই জোরালো হয়ে ওঠে যে, কর্তৃপক্ষ এ দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। আজ আমির হোসেন সাহেব আমাদের মাঝে নেই; কিন্তু তার স্মৃতি কিছু মানুষের মনে অম্লান হয়ে বিরাজ করছে। জীবদ্দশায় তিনি দেশের ও দশের কল্যাণ কামনা করেছেন, কল্যাণে কাজ করেছেন। তার সহজ-সরল জীবনযাত্রায় মানুষের উপকার করার মানসিকতা ও বিপদে-আপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে অকৃত্রিম ইচ্ছা আজকের দিনে বিরল। আমির হোসেন সাহেবের মধ্যে নিজেকে আড়াল করে রাখার একটা মানসিকতা কাজ করত বলে আমি মনে করি। এ কারণেও তার পরিচিতি এবং মেধা, যোগ্যতা অনেকটা লোকচক্ষুর অগোচরে থেকে গেছে। তার স্মৃতি, তার সুকৃতি শুকতারার মতো অম্লান হয়ে আমাদের ৎসিদয়ে বিরাজ করছে। তার জীবনে না পাওয়ার বেদনা ছিল, তার যোগ্যতার ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি—এ কথা আমি বিশ্বাস করি। তার মৃত্যুর পর তার কিছু কিছু নিকটজন এটা বিশ্বাস করেন।

লেখক : সম্পাদক, দৈনিক জনতা।

Thursday, April 26, 2018

এক নিবেদিত ছাত্রলীগ কর্মীর আত্মকথাঃ

এক নিবেদিত ছাত্রলীগ কর্মীর আত্মকথাঃ
************************
"সুসময় অনেকেই বন্ধু বটে হয়; দুঃসময়ে হায় হায় কেহ কারো নয়"

কবি কেন এমন মর্মবেদনাহত জ্বালাময়ী কবিতা লিখেছিলেন, জানা নেই। হয়তো কবির জীবনেও এমন ঘটনা ঘটেছিল এবং অন্তরাত্মাকে দহন করেছিল প্রচন্ডভাবে তাই তিনি লিখেছিলেন এ অমর কবিতা।
সাইফুর রহমান সোহাগ-গরবিত পিতার গর্বিত সন্তান। মাদারীপুরের কৃতি ছাত্রলীগ কর্মী থেকে ছাত্রনেতা।

এ ছাত্রলীগ নেতা কারো দয়া দাক্ষিণ্যের ফসল নয়; এ মহান দায়িত্ব এমন কি জননেত্রী শেখ হাসিনা সোহাগকে করুনা দয়া মায়া মমতাবোধ বা স্বজনপ্রীতির দলিল হিসেবে প্রদান করেন নি। নিজের কর্ম স্পৃহা ন্যায় সত্য সততা নিষ্ঠা এবং কঠিন শ্রমের মর্যাদা হিসেবে কাউন্সিলের সিদ্ধান্তানুযায়ী বাংলাদেশের সুপ্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যময় গর্বিত মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের প্রজন্মের তরুন মেধাবী ছেলে/মেয়েদের নিয়ে গঠিত ছাত্রলীগের কর্ণধার হতে পেরেছিল আজকের কথিত ভিত্তিহীন অহেতুক বানোয়াট মিথ্যা প্রপাগেশন/ দুর্নামের বোঝা চাপানো সময়ের সব চেয়ে সফল ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান।
আমি মাদারীপুরের ছেলে বলে বা সোহাগ অতি নিকটের বলে কোন চাটুকারিতা বা অহেতুক অঢেল প্রশংসা করে সোহাগের নিকট প্রিয় হবার কোন বাসনায় এ লেখাটি লিখছি না। সোহাগের সুসময়ের ফল যারা পেট ভরে খেয়েছে সে সকল ছাত্রলীগ নেতা কর্মী ছেলে মেয়েরা আজ সোহাগের বিরুদ্ধে কঠিন চক্রান্ত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কেউ কেন একটি প্রতিবাদ করেনি; সে বিষয়টি আমাকে গভীর ভাবে ভাবিয়ে তুলেছে; লিখতে চাইছিলাম না। কারন এখন সোহাগের পক্ষে কথা বলতে গেলেই আমার নিজস্ব একান্ত কিছু বন্ধু বান্ধব ফেসবুক ভক্ত বা ছাত্রলীগ নেতা কর্মী অনেক যুক্তি দেখাবেন। রাজাকার পুনর্বাসনের কাহিনী গল্প দিয়ে সোহাগের জীবনের সকল অবদানকে কলুষিত করবেন। তাই বলার সাহস পাচ্ছিলাম না। Image may contain: 1 person, closeup and outdoor
কিন্তু সম্প্রতি বানোয়াট ভিত্তিহীন মিথ্যে তথ্য সম্বলিত একটি অজনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকায় সোহাগের সাথে তারেক রহমানের আর্থিক লেন দেন বা গোপন আঁতাত সংক্রান্ত ইস্যুটি আমাকে চুপ থাকতে দেয়নি। আমি স্পষ্ট ভাষায় কথা বলি এবং সে বলার কারনে অনেক নেতা সাংসদ মন্ত্রীই আমাকে দেখতে পারেন না; এ কথা আমার ফেসবুকের ফলোয়ারের সংখ্যা হ্রাস পাওয়া থেকে এবং আমার লেখা "লাইক" না করার অভিজ্ঞতা থেকেই সহজে অনুমান করতে পারছি।
কিন্তু আমি তো ঐ সেই পাগল মুক্তি। যা' সত্য তাই বলি, কেউ লাইক করে বা না করে তাতে আমার প্রতিদিনের বাজার এবং খাবার বন্ধ হয়ে যাবে না ইনশাহ আল্লাহ।
সোহাগ আমার দু'পয়সার উপকার করেনি কোন দিন। কারন আমি যাইনি । কিন্তু সোহাগের জন্য আজ আমার বড় কষ্ট হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে সোহাগ সভাপতি হবার পর থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সকল কাজগুলো বিগত বছরের থেকে অনেকটা সফল বলেই খোদ বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার দ্বারাও প্রচন্ডভাবে ভূয়সী প্রশংসা পেতে সক্ষম হয়েছে এই সোহাগ জাকির পরিষদ।

মফস্বল কমিটি/স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শাখা কমিটিতে কি ভাবে স্বাধীনতা বিরোধী জামাত শিবির বা বি এন পি'র ছেলে মেয়েরা ঢুকে পড়েছে; সেটা শুধু কি ছাত্রলীগ যুবলীগেই ঘটেছে? না এ ক্ষেত্রে জাতির গুরু দায়িত্বপ্রাপ্ত খোদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই জগা খিচুড়ি হয়েছে।
দেশে প্রবাসে সকল কমিটিগুলো আজ ন্যাপ জাসদ বাসদ কমিউনিস্ট জামাত বি এন পি ডানপন্থী বামপন্থী দিয়ে ভরিপুর এক তেতুলের টক ঝাল মিষ্টি জাতীয় হাই ব্রীড আওয়ামী লীগ হয়ে দাঁড়িয়েছে । ফলে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনা , আওয়ামী লীগ বিশেষ করে মহা সংকটের দিনে রাজপথের লড়াকু নিবেদিত কঠিন শিলায় পরিনত হওয়া তৃণমূল নেতা কর্মীরা আওয়ামী লীগ যুবলীগ সেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ থেকে খোভে দুখে অভিমানে দূরে বহু দূরে সিটকে পড়েছে। এর জন্য শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, সোহাগ জাকিরদের দোষ দিলেই কি দায়িত্ব শেষ হয়ে গেল বা সমাধান হয়ে গেল সকল জটিল দুর্নীতির অপবাদ?
জাকিরকে সোহাগ ব্যক্তিগত বন্ধু হিসেবে দলের সাধারন সম্পাদক করার কোন ক্ষমতা রাখে কী? কাউন্সিল ও দলীয় সিদ্ধান্তই একজন সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক তৈরী করে। এখানে জাকিরের অতীত নিয়ে আমিও লিখেছিলাম। কিন্তু সে জন্য সোহাগ কে কলংকিত করে কেন তার সততা নিষ্ঠা এবং ছাত্রলীগকে সুসংগঠিতভাবে ঐক্যবদ্ধ করে তোলার সকল প্রশংসা থেকে বঞ্ছিত করে ভিত্তিহীন মিথ্যা বানোয়াট গল্প কাহিনী দিয়ে কলুষিত করা হচ্ছে? আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

"সব মাছেই বিষ্ঠা খায়, নাম পড়ে বোয়াল মাছের"

সোহাগ কোন হতদরিদ্র্য ঘরের ছেলে নয়। ছাত্রলীগ নেতা হবার অনেক আগে থেকেই যার পারিবারিক পরিচয় মাদারীপুরের সকল সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোর মধ্যে অন্যতম। সোহাগ ছ্যাড়া গেঞ্জি গায় দিয়ে ভাংগা স্যুটকেস মিডিয়াকে দেখিয়ে বলেনি যে আমি ফকিন্নি ছাওয়াল। সোহাগ মাদারীপুরের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান, সোনার চামচ মূখে নিয়ে জন্মানো ধনি পরিবারের একজন সদস্য যার বাড়ীতে শিশুকাল থেকেই দুই/চারজন চাকর/চাকরানী দেখে বড় হওয়ার অভ্যাস, যার বড় ভাই সুইডেনে বসবাসরত একজন প্রবাস আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত এবং সোহাগের পরিবার ঠিক মাদারীপুরের আওয়ামী রাজনীতির কিংবদন্তি বঙ্গবন্ধুর সহকর্মী মরহুম এডভোকেট মৌলভী আচমত আলী খানের সম্ভ্রান্ত পরিবারের চেয়ে কোন অংশে কম নয়।
সুতরাং বন্ধুগণ, আগে সঠিক তথ্য জেনে নিন এবং তদন্ত করুন তারপরে সোহাগ কে নিয়ে কঠোর সমালোচনা করুন। সোহাগের সারা জীবনের কঠিন কর্মের সফলতাকে এভাবে ধুলায় লুন্ঠিত করে ছাত্রলীগের ঐতিহ্যকে কলংকিত ও কলুষিত না করার জন্য সকলের নিকট একজন মুক্তিযোদ্ধা মুজিবসেনা হিসেবে সবিনয় নিবেদন করছি।
*******************************************
জেনে নিন ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের জীবনী

ছাত্রলীগ-সোহাগসাইফুর রহমান সোহাগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের ২৮তম নির্বাচিত সভাপতি। তিনি ২৬ জুলাই ২০১৫ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে ৩ হাজার ১৩৮ ভোটের মধ্যে ২ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উর্বর ভূমি খ্যাত মাদারীপুরের একটি আওয়ামী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালনকারী ছাত্র সমাজের এ নেতা।

আওয়ামী রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করার কারণে রাজনৈতিক গুণাবলি তার মধ্যে ছোট বেলা থেকেই লক্ষ্য করা গেছে বলে জানান তার ঘনিষ্ঠ সহচর মোহাম্মদ ইমরান খান। এইবেলা ডটকমের পাঠকদের বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের পূর্ণাঙ্গ জীবন বৃত্তান্ত নিচে দেওয়া হল।

জন্ম: ১৯৮৬ সালের ৩১ আগস্ট মাদারীপুর জেলার দক্ষিণ দুধখালি ইউনিয়নের আদর্শ শিক্ষক এইচ এম আবদুর রহমান (কর্মক্ষেত্র: চন্দ্রপুর এ এইচ পি উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দ্রপুর, শরীয়তপুর।) ও সমাজ সেবী মর্জিনা খানম (পেশা: অবসরপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ সহকারী, কর্মক্ষেত্র: মাহমুদপুর ইউনিয়ন, শরীয়তপুর।) ঘরে জন্ম নেন বর্তমান সময়ের লাখো ছাত্রের অভিভাবক সাইফুর রহমান সোহাগ। তিনি তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়।

সাইফুর রহমান সোহাগের পারিবারের রাজনৈতিক পরিচয়: সাইফুর রহামান সোহাগের বড় ভাই মাহবুবুর রহমান সোহেল সুইডেনের লিনিয়াস ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করেছেন। তিনি সুইডেন সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক।

সাইফুর রহমান সোহাগের আরেক ভাই আরিফ হোসেন সুমন সুইডেন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার নানা মরহুম আব্দুল গনি মাতবর ছিলেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি। বর্তমানে তার মামা আনোয়ার মাতবর ওই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি। সাইফুর রহমান সোহাগের চাচা ডা. রেজাউর আমিন মাদারীপুর জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।

সোহাগের শিক্ষা জীবন: সাইফুর রহমান সোহাগ মাদারীপুর ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০০২ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৩.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তখন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে চতুর্থ বিষয়ে (অপসনাল) নম্বর যোগ হতো না। উল্লেখ্য, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী থাকাকালীন সময়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। এক কথায় বলতে গেলে এ বিদ্যালয়টি এখন বাংলার ইতিহাসে থাকা বিদ্যালয়গুলোর একটি।

মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনোর পর সরকারী নাজিমুদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হন তিনি। ২০০৪ সালে ঢাকা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সাফল্যর সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। এ নাজিমুদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অধ্যয়নকালেই ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন সাইফুর রহমান সোহাগ।

উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রথম বছরেই তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং পরবর্তী বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাই নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে ভাষা বিজ্ঞান স্নাতক সম্মানের শিক্ষার্থী। তিনি ভাষা বিজ্ঞান থেকে সাফল্যের সঙ্গে সম্মান শেষ করেন ২০০৯ সালে। ২০১০ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করছেন। পাশাপাশি বিদেশী ভাষার প্রতি আগ্রহ থাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে বিশ্ববিদ্যালয় জাপানিজ ভাষা কোর্সে অধ্যয়ন করছেন।

সাইফুর রহমান সোহাগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড:
১. ২০০২-২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে, মিছিল মিটিং-এ নাজিম উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী।
২. ১/১১(এক এগার-তে গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনের সময় বিক্ষোভ মিছিলে এবং মানববন্ধন ও কালো পতাকা প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ঘরোয়া আলোচনায় একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে অংশগ্রহণ।

৩. সাবেক সক্রিয় কর্মী সরকারী নাজিম উদ্দিন কলেজ ছাত্রলীগ এবং ১/১১ তে দেশরত্ম শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি স্বরূপ সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে জিয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করা।
৪. জিয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে সাধারণ ছাত্রদের দাবি আদায়ে সক্রিয় থেকে সফলভাবে জিয়া হল ছাত্রলীগকে সংগঠিত করা।

৫. প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত গণশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে দুটি স্কুল (পথশিশুদের জন্য) সফলতার সাথে পরিচালনা করা। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর উপর বিভিন্ন হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে পাঠচক্র পরিচালনা করা ।
৬. পরিবেশ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে সারা বাংলাদেশের ৫০ এর অধিক জেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পাদন ও পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন সভা ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করা।
৭. জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনের সকল কর্মসূচিতে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করা।
৮. জামাত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে ও হেফাজতের নৃশংসতার বিরুদ্ধে সর্বদা সক্রিয় অংশ গ্রহণ করা।
৯. ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের নির্বাচনের পূর্ব ও পরে বিএনপি-জামায়াতের অপকর্মের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ ঘোষিত সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে চলমান গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের অগ্রসৈনিক হিসেবে অংশগ্রহণ করা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকেবুকে ধারণ করে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে আমি সর্বদা প্রস্তুত থাকা।
১০. সর্বশেষ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৮ তম জাতীয় সম্মেলনে নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল ভোটে সভাপতির দায়িত্ব পালন (চলমান)।

ছাত্রলীগ সভাপতি হওয়ার আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত পদ:
সাইফুর রহমান সোহাগ ছাত্রলীগ সভাপতি হওয়ার আগে সংগঠনের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা ছিলেন। বিএনপি-জামাত শাসনামলে ছাত্রলীগের দুঃসময়ের কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে ২০০৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়া হলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য: সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্য উদ্দেশ্য থাকা জরুরি। সেক্ষেত্রে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগেরও কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে।

সাইফুর রহমান সোহাগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিম্ন রুপ:
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গঠনে ছাত্র সমাজকে শিক্ষা শান্তি প্রগতির পতাকাতলে এনে গণতন্ত্রের মানসকন্যা বিশ্বশান্তির অগ্রদূত বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা। দেশ ও জাতির অর্থনৈতিক ও গণতন্ত্রের মুক্তি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা, অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে জননেত্রী দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করা।

Sunday, April 22, 2018

সৈয়দ আবুল হোসেন ও কালকিনিবাসীর প্রত্যাশা

জবাবদিহি সৈয়দ আবুল হোসেন করবেনা, করবে খালেদা ইউনুস, হিলারী ক্লিনটন; যে কারনে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ পিছিয়ে গিয়েছিল। গোটা আওয়ামী লীগ সরকারকে জাতি সংঘ, বিশ্ব ব্যাংক ও কানাডার নিকট হেয় প্রতিপন্ন করার মহা ষড়যন্ত্রের গ্যারাকলে মন্ত্রীত্ব অস্তিত্ব মান সন্মান তথা মাদারীপুর কালকিনিবাসীর আগামী দিনের সোনালী স্বপ্ন ভেঙ্গে চৌচির করে দেয়া হয়েছিল। আজ সময় এসেছে সৈয়দ আবুল হোসেনের ন্যায্য বিচার পাবার। বঙ্গবন্ধু তনয়া সে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করবেন ইনশাহ আল্লাহ। ফিরিয়ে দেবেন আমাদের সন্মানিত সাংসদের পদবী ও মন্ত্রীত্ব। আমরা কালকিনিবাসী জাতিরজনকের আদর্শ স্বপ্ন ও চেতনায় উদ্ভাসিত চির বঞ্চিত অবহেলিত লাঞ্ছিত শোষিত অত্যন্ত গ্রাম্য কৃষক শ্রমিক তাতী জেলে বনিক ধনিক হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্টান আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গভীর আশায় বিশাল প্রত্যাশার বাসনা বক্ষে লালন করে বেচে আছি।
আমরা আমাদের কালকিনির পবিত্র মাটিতে জন্ম নেয়া সৈয়দ আবুল হোসেন কে এবারো নৌকার কান্ডারী-মাঝি হিসেবে পেতে চাই।
আমরা বিদেশী কোন ভাড়াতে লুটেরা দুর্নীতিবাজ চাঁদাবাজ নেতা কালকিনির মাটিতে দেখতে চাইনা।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
জয় হোক কালকিনিবাসীর
জয় হোক দেশরত্ন শেখ হাসিনার
মোকতেল হোসেন মুক্তি
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় কন্ঠশিল্পী

নেতা আপমান করেছে, শেখের বেটি আদর করেছে

নেতা আপমান করেছে, শেখের বেটি আদর করেছে, সূতরাং আগামী দুঃসময়ে শেখ হাসিনার সাথেই থাকুন, সময় বদলে যাবে ইনশাহ আল্লাহ। the leader has insulted you, not daughter of bangabandhu, stay with sheikh hasina on upcoming disasters of the nation, awami league and the country.

শেখ হাসিনা জোর দিয়েই বলেছেন "নেতারা বেঈমানী করে, কর্মী করে না; অর্থাৎ অবহেলিত হলেও কর্মীদের দেশরত্ন কখনোই অবজ্ঞা তাচ্ছিল্য করেননি।

the sorrowfulness of azim rony student leader of chittagong

রনি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে কেউ রাজনীতি চর্চা করোনা।সর্বোচ্চ ‘রনি’ চরিত্রটি যে কোন গল্প,কবিতা অথবা উপন্যাসে ঠাঁই দিতে পারো।কারন বাস্তবতা অনেক কঠিন,অনেক বেশী দূর্গম।’রনি’দের স্বপ্ন পূরন হবেনা এ সমাজে।যে কলেজগুলোতে প্রগতির পতাকা উত্তোলনের পর একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হবে স্বপ্ন দেখেছিলাম সে কলেজগুলোর জন্য পাবলিক দূর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে।দায়ী কে?রনি নাকি রনি বিরোধীরা?শিক্ষা আন্দোলনের পতাকা উড়িয়ে রনি’রা পেয়েছি চাঁদাবাজির খেতাব।অথচ শিক্ষা বানিজ্যে নিয়োজিতরা দাঁত খেলিয়ে হাসছে এই নগরের লুটভবনগুলোতে।মাঠ রক্ষার আন্দোলনে গিয়ে রনি’রা হয়েছে পুলিশের গুলিতে বুলেটবিদ্ধ,হয়েছে বাঁশ রড চুরি মামলার আসামী।আর মাঠ খেকোর নাম হয়েছে বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ডট ডট ডট গোস্বামী চন্দ্রবিন্দু।মানবতার উদাহরন তৈরী করতে গিয়ে রনি’রা হয়েছে প্রতারকের হাতে পরাজিত,এতেও সার্বিক সহযোগিতায় একই মোস্তাক চক্রবর্তীরা।


রনি’দের স্বপ্নগুলো কাজী নজরুল অথবা রবীন্দ্রনাথের হাতেই স্বার্থকতা পেয়েছে বারবার।এদেশের কোন দলের কোন রাজনৈতিক নেতা রনি’দের স্বপ্ন পূরনে এগিয়ে আসেনি।মানবকন্যা শেখ হাসিনা দেশের ভাগ্য উন্নয়নে একক নৈপুন্যে কাজ করলেও নিজ দল ও অন্য সব দলের নেতারা রনি’দের দমন পীড়নে সবচেয়ে বেশী ভূমিকা রাখছে।
তাই পরিশেষে বলছি রনি হওয়ার স্বপ্ন দেখে নির্ঘূম রাত্রীযাপন সব দিক থেকেই ক্ষতিকর।এই যে দেখছো,জ্যান্ত নূরুল আজিম রনি আমি,

দিনশেষে মিথ্যা অপবাদে ৫ টি ফৌজদারী মামলা,২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড আর পকেটে ৭২ টাকা নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়িয়েছি।

আমি রনি জেনে শুনে বুঝেই আত্মঘাতি হতে এ পথে এসেছি।জলজ্যান্ত আমি নূরুল আজিম রনির স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হলেও এসবের বিরোধিতা কারীদের মুখোশ উন্মোচনের জন্য আমার জন্ম হয়েছে।
এ লড়াই চলুক,চলবে....

Saturday, April 21, 2018

কালকিনির মানুষ

5 minsMale
১৯৯৬ টার্মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দেবার পরেও আমার সচিবালয়ের চাকুরীটি এবং মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম আসেনি এই লুটেরা আফম বাহাউদ্দিন নাসিমের কারনে। নাসিম আমাকে নেত্রীর সাথে কথা বলতে দেয়নি। নেত্রী আমাকে প্রশ্ন করলেন আপনার বয়স কত? আপনি কোথায় যুদ্ধ করেছিলেন? ১৯৯৬ সালে গোপালগঞ্জের কমান্ড কাউন্সিল ও মাদারীপুরের আমার কয়েকজন সহযোদ্ধাদের নিয়ে নেত্রীর সাথে দেখা করেছিলাম। এই আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম ছিল নেত্রীর এ পি এস। আমার কথা শেষ করতে দেয়নি এই বিশ্ব লুটেরা বাহাউদ্দিন নাসিম। আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বললঃ আপনি এখানে এসেছেন কেন? সৈয়দ আবুল হোসেনের নিকট যান? আমার হাতে বঙ্গবন্ধু ৪টি এলবামের ক্যাসেট দেখে বললেন-আপনি শিল্পী গান করেন-রেডিও টিভিতে যান, এখানে কেন এসেছেন?Image may contain: M Farid Hossain Howlader, closeup and outdoor
বন্ধুরা প্রশ্ন আপনাদের নিকটই আমি কেন শেখ হাসিনার নিকট গিয়েছিলাম? কারন আমরা বেহায়া বেশরম বেগারদ তাই?
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন-তুই চুপ কর! হ্যা আপনি বলেন- এর মধ্যেই আমার হাত থেকে কাগজগুলো বাহাউদ্দিন নাসিম নিয়ে গেল। বাস কিসস্যা ওখানেই শেষ। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মরহুম বজলুর রহমান, বজলু ভাই আমাকে ডেকে নিয়ে ১০ হাজার টাকার অনুদান ভিক্ষার কথা লিখতে শুরু করলেন। আমি রাগে ক্ষোভে দুখে হতাশায় চলে এসেছিলাম।
আরো অনেক বড় বড় বিশাল রহস্যজনক গল্পও শুনাবো শুনবেন । হ্যা ভাই আমার বাড়ী কালকিনি৩ আসনের বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের খাসের হাট। কাজেই বাহাউদ্দিন নাসিমের সাথেও নোমিনেশন পেলে দেখাতো হবেই- বক্তৃতাও হবে-গানও হবে- হয়তো সে গান হবে নাসিম বিরোধী গান। কারন খাসের হাট আমার। বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন আমার। প্রয়োজনে বাহাউদ্দিন নাসিমের বিরুদ্ধে স্বতন্দ্র নির্বাচনও করতে পারি। আমি শিল্পী আমার টাকা লাগবে না। কালকিনির মানুষ আমার আর নকুল কুমারের গানের পাগল। গান দিয়েই ১২ টা বাজাতে পারবো।

মাদারীপুর তিন, তাক ধিনা ধিন ধিনঃ


মাদারীপুর তিন, তাক ধিনা ধিন ধিনঃ

১। ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সোবহান গোলাপ; সাহেবরামপুর/রমজানপুর ছাড়া কেউ চিনে না;

২। শিবির নেতাকে কালকিনি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি করেছে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম; বড় অংকের টাকায় বিক্রয় করেছে ইউনিয়নের নৌকার টিকেট;

৩। সৈয়দ আবুল হোসেন???????????????? বোকা, শুধু জাতিকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ইত্যাদি করে বেড়াচ্ছেন; অশিক্ষিত মূর্খ বাঙ্গালী জাতিকে শিক্ষিত জাতি হিসেবে গড়ে তুলছেন নিজের এন জি ও'র অর্থে । হোক সে জাতীয় অর্থ জনগণের অর্থ! সবাই নৌকায় বসে জনগণকে চুষে খায় আর সৈয়দ আবুল হোসেন নৌকায় বসে জনগণকে অর্থ সম্পদ দান করেন; এখানেই রাত ও দিনের ব্যবধান। বিচার বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা ও মাদারীপুর কালকিনি ৩ আসনের জনগণ করবেন।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু